
প্রতিনিধি ১ আগস্ট ২০২৩ , ৬:৫৪:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশেষ প্রতিনিধি : এক প্রতারক স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের খপ্পরে পরে অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন এক যুবতী এবং তার ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান। ভুক্তভোগী যুবতীর নাম মোছাঃ নিশাত সুলতানা আঁখি (২৬), তার পিতা: মৃত. আশরাফ আলী, শাহজাহানপুর, বগুড়া। খোঁজ নিয়ে জানা যায় নিশাতের সাথে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার আবুল হাশেম এর ছেলে ইউসুফ আলী বিপ্লব ৩ মে ২০১৩ ইং সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
মোবাইল ফোনে নিশাত জানান, তার পিতা মৃত আশরাফ আলী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। এবং সেখানে একই পদে চাকুরী করতে নিশাতের শ্বশুর আবুল হাশেম আলী। একই সংগে চাকুরী করার সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা একে অন্যের নিকট পারিবারিকভাবে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তাদের এই সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগে জনৈক হাশেম আলী তার বেকার ছেলে বিপ্লবের সংগে মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে নিশাতের বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে নিশাতের সংগে বিয়ে দেয়া হয়। সেসময় নিশাতের স্বামী বিপ্লব প্রায় চার বছর নিশাতের বাসায় বেকার ছিলেন। সেসময় তাদের সমস্ত ভরনপোষণ তার শাশুড়ী (নিশাতের মা) বহন করেন। এরপর বিপ্লব বেকার থাকায় নিশাতের পরিবারের কাছে ব্যবসায় করার উদ্যেশ্যে ১২ লক্ষ টাকা ধার হিসেবে নেন।
উক্ত টাকা নেয়ার কিছুদিন পর সে মাদক এবং পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে সেই ব্যবসার টাকা নষ্ট করে এবং পারিবারিক ভাবে স্ত্রীর সংগে বিভিন্ন অশান্তি সৃষ্টিকরে। এবং সে পুনরায় ব্যবসায়ের কথা বলে নিশাতের মায়ের কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবী করে।
নিশাতের পরিবার থেকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এর কিছুদিন পর সে কৌশলে নিশাতের মায়ের প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা এবং তার স্ত্রী নিশাতের তুলে রাখা ৭ ভরি স্বর্নালংকার চুরি করে শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে নিশাত তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে তাতে সাড়া না দিয়ে সে ঢাকায় পরকীয়ায় আসক্ত সেই মেয়ের সংগে অবৈধ মেলামেশা শুরু করে। এর মধ্যে নিশাতের গর্ভে সন্তান আসে এবং ১১ নভেম্বর ২০২১ সালে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এদিকে সে সন্তানের খোঁজ খবর না নিয়ে ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকার একটি বারে ড্যান্সার হিসেবে পরিচিত এক মেয়েকে তার অর্থ সম্পদ এবং ফ্ল্যাটের লোভে প্রথম স্ত্রী নিশাতের অনুমতি ছাড়া ২০২২ সালের মার্চ মাসে ২য় বিয়ে করে। এবং এর কিছুদিন পর প্রতারক বিপ্লব তার প্রথম স্ত্রী নিশাতকে ব্যাক ডেট দেখিয়ে একটি ডিভোর্স লেটার পাঠায় ।
পরবর্তীতে নিশাত তার প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বগুড়ার আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। যা মামলা নং-(০৯), ১৫/০৭/২০২২ইং, শাহাজানপুর থানা, বগুড়া।
এবং মামলা বিচারাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী নিশাতকে কোর্টে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আটকিয়ে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখায় এবং কাল ক্ষেপণ করায় এবং কোর্টে হাজিরা দিতে বাধা সৃষ্টি করে। মামলায় বিলম্বিত হাজিরা এবং অর্থের বিনিময়ে নিশাতের আইনজীবীকে তথ্য প্রদানে বাধা দেয়ার একপর্যায়ে চলমান মামলাটির গুরুত্ব কমে যায়।
এমতাবস্থায় ছোট্ট শিশু সন্তানকে নিয়ে নিশাত একপ্রকার অমানবিক অসহায় জীবন যাপন করছেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে নিশাত কান্না জড়িত কন্ঠে আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, আমার বাবার কর্মসূত্রে পরিচিত হবার কারনে ছোটবেলা থেকেই তাদের বাড়িতে আমাদের যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদে আমার শ্বশুর এবং স্বামীর বিভিন্ন অপকর্ম পরবর্তীতে সেই এলাকার লোকদের কাছে আমরা জানতে পারি। এর মধ্যে আমার শ্বশুর হাশেম আলী ২০১১ সালে ঢাকা দক্ষিনখান থানায় রিসালাত মাল্টিপারপাস নামের একটি কোম্পানী খুলে। এবং সেখানে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে জনপ্রতি ২-১০ লক্ষ টাকা জমা করে কয়েকশত লোকের কাছ থেকে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি রৌমারিতে পালিয়ে যায় এবং সেখানে দুটি ইট ভাটার ব্যবসা শুরু করে।
এদিকে তার শ্বশুর বাড়ির অতীত স্মৃতি মনে করে নিশাত জানান আমি বিয়ের পর আমার স্বামীর সংগে তার বাড়িতে (রৌমারী উপজেলায়) যেতে চাইলে সে কখনোই আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে চাইতো না। আমি জোরপূর্বক গেলে সেখানে তার মা বাবা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আমাকে বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত করে আসছিলো। তার এলাকার লোকজনের কাছে জানতে পারি তারা আমার বাবার অর্থ সম্পদের লোভে আমার সংগে তাদের বেকার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিলো এবং তারা পারিবারিকভাবেই বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজের সংগে জড়িত। তাদের পরিবারের আরেক সদস্য বিপ্লবের ছোট ভাই (নিশাতের দেবর) পারভেজ, সম্প্রতি তার আপন চাচাতো ভাইয়ের বউকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছে বলে সে জানতে পেরেছে । সেই মহিলার ঘরে ১১ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও তার শ্বাশুড়ি (বিপ্লবের মা) একজন লোভী, ঝগড়াটে এবং ধুরন্ধর মহিলা হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত বলে তিনি জানান।
এদিকে আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে নিশাত জানান, তার পিতা মৃত আশরাফ আলীর একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছিল। তার বর্ননা মতে, ২০০৪ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মরত অবস্থায় তার কলিগ নিশাতের শ্বশুর একটি চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সংগে জড়িত ছিলেন। এবং সেসময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬০ লক্ষ টাকার একটি চোরাকারবারি ঘটিনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন জনৈক প্রতারক হাশেম আলী। সেটি নিশাতের বাবা মৃত আশরাফ আলী জানতে পেরে তার প্রতিবাদ করেছিলেন। এবং এরই কিছুদিন পর ঢাকা কেরানীগঞ্জ এলাকায় নিশাতের বাবা আশরাফ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেসময় নিশাতের মা অভিভাবক না থাকায় মামলাটি সম্পর্কে যোগাযোগ রাখতে ব্যহত হন। এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে মামলাটি বেশিদূর এগোতে পারেনি বলে জানান নিহত আশরাফ আলীর মেয়ে নিশাত। এ সম্পর্কে তিনি বলেন এই মৃত্যুর পিছনে আমার শ্বশুর জনাব হাশেম আলী সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি নিজ কানে তার মুখ থেকে শুনতে পেয়েছি। নিশাত বলেন ২০১৮ সালের কুরবানি ঈদে আমি আমার স্বামীর সংগে জোড়পূর্বক তার গ্রামের বাড়িতে( রৌমারী উপজেলায়) যাই, সেখানে তাদের পরিবারের লোকজন আমার আমার সংগে বরাবরের মতোই অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে আমার শ্বশুর জনৈক হাশেম আলী তার মোবাইফোনে কে বা কাহার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে বলতে থাকে আশরাফ আলীকে মেরে ফেলেছি এখন তার মেয়ের জন্যও কিছু করতে হবে। নিশাত বলেন আমি তার এই কথা নিজ কানে শুনে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে তাতক্ষনিক এর প্রতিবাদ করি এবং আমার শিশু সন্তানকে নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইতে যাই। চেয়ারম্যান আমাকে বিভিন্ন ভুল বুঝিয়ে সেখান থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এবং পরবর্তীতে আমার শ্বশুর প্রতারক হাশেম আলী তার এই কথা অস্বীকার করেন। নিশাত বলেন আমি আমার বাবার এই হত্যার সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় সম্প্রতি ঢাকা কেরানীগঞ্জ থানা থেকে মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করেছি। আমি ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় পূনরায় আমার বাবার হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে নতুন করে মামলা পরিচালনা করব । তিনি নিজের, তার ছোট্ট শিশু এবং তার মায়ের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

















